পিরোজপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী এক নাগরিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সম্প্রীতির একটি দৃশ্য উঠে এসেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, সহনশীলতা ও সামাজিক সৌহার্দ্যের অঙ্গীকার করেছেন—যা নির্বাচনী রাজনীতিতে সচরাচর দেখা যায় না।
শনিবার দুপুরে পিরোজপুর শহরের টাউন ক্লাব চত্বরের স্বাধীনতা মঞ্চে এই আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর পিরোজপুর জেলা শাখা। পিরোজপুর-১ আসনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ সাঈদী—এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
‘একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের নিয়ে একটি উন্মুক্ত মুখোমুখি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে উপস্থিত নাগরিকরা সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান, যা নির্বাচনী সংলাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি পরিসর তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে দুই প্রার্থী ও উপস্থিত নাগরিকরা একসঙ্গে হাত ধরে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার শপথ নেন। আয়োজকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও সামাজিক ঐক্য ও গণতান্ত্রিক আচরণ নিশ্চিত করাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সুজন পিরোজপুর জেলা কমিটির সভাপতি মুনিরুজ্জামান নাসিম আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জহিরুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের নাগরিক সংলাপ ও সম্প্রীতির উদ্যোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। পিরোজপুরের এই আয়োজন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
আরো পড়ুন: