আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠেয় জুলাই জাতীয় সনদ (ন্যাশনাল চার্টার) বিষয়ক গণভোট পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারি ও সম্পৃক্ততা বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে এই উপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এসব সংস্থা থেকে মোট ৬৩ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি পৃথক দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত আরও ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
এই সংখ্যার ফলে আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩৩০ জনে, যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ওই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি ছিল সীমিত, যা নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, ১১তম নির্বাচনে ১২৫ জন এবং ১০ম নির্বাচনে মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওআইসি’র দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এ ছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক আসছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের প্রতিনিধিসহ ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষকও ভোট ও গণভোটের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব এবং এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ বলেন, পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার ভাষায়, আমন্ত্রণ জানানো কয়েকটি দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত করেনি। তিনি জানান, ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়াসহ কয়েকটি দেশ এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোসাও শিগগির তাদের পর্যবেক্ষকদের তালিকা ঘোষণা করতে পারে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট, যা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
পর্যবেক্ষকদের এই ব্যাপক উপস্থিতি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরো পড়ুন: