বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩০

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে বিএনপি দেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় সহাবস্থানের পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা নিমবাড়ী এলাকায় এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে ধর্ম ব্যক্তির, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। তার ভাষায়, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন এবং রাষ্ট্র তাদের সবার নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বিভেদ সৃষ্টি করেই একটি গোষ্ঠী দেশের ক্ষতি করতে চায়। মানুষ যদি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তবে দেশ কখনোই এগোতে পারবে না। সবাইকে বিভাজন ভুলে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, অতীতেও বিএনপি সরকারের সময় দেশে অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা ছিল। তিনি বলেন, দলটি শুধু কথার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; ক্ষমতায় গেলে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রবিরোধী যে কোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি জানান।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকাকালে তিনি সব সময় জবাবদিহি ও সততাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি ব্যক্তিগত সুবিধা নেননি এবং ভবিষ্যতেও ভোটারদের দেওয়া দায়িত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।

পথসভায় তিনি বিএনপির প্রস্তাবিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের প্রধান নারী সদস্য ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচসুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই পথসভা উত্তরাঞ্চলে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলটি অসাম্প্রদায়িকতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী বার্তা হিসেবে তুলে ধরেছে।