নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে: তারেক রহমান

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে: তারেক রহমান
বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন-চরজানা বাইপাস এলাকার নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪০

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি মহল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ঐক্য ও সচেতনতার মাধ্যমে জনগণ নিজেদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে পারলে এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।

শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের দরুন-চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মঞ্চে উঠে তারেক রহমান বলেন, সামনে যে দিনগুলো আসছে, সেগুলো দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দিন। তার ভাষায়, জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকে, তবে কেউ তাদের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।

সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটকে প্রভাবিত করতে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য নেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে দূরে থাকার এবং পরিবার-পরিজনকে সতর্ক করার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটের দিন ভোরে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আগের দিন থেকেই ভোটারদের প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে কেউ তাদের নামে ভোট দিয়ে যেতে না পারে। তিনি স্থানীয় ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সঠিক ভোটার যেন সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন—এটা নিশ্চিত করতে হবে।

জনসভা থেকে টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান এবং তাদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। তিনি টাঙ্গাইলবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, এসব প্রার্থীকে বিজয়ী করে জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবর্তনের বার্তা দিতে।

স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প, বিশেষ করে টাঙ্গাইল শাড়িকে পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে টুপিশিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, পাটশিল্প ও নদীকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে ধীরে ধীরে একটি শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। যমুনা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ এবং নতুন মিল-কারখানা স্থাপনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও জনগণের সমর্থন পেলে শুধু টাঙ্গাইল নয়, সারা বাংলাদেশেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ; তাদের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন টেকসই হতে পারে না।

জনসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন সভাপতিত্ব করেন। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এবং আটটি আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাবেশস্থল ও আশপাশে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। উত্তরাঞ্চলে টানা কয়েক দিনের নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের জনসভা ছিল তারেক রহমানের শেষ কর্মসূচি; সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

এই সমাবেশকে নির্বাচনের ঠিক আগে বিএনপির শক্তি প্রদর্শন ও ভোটারদের সংগঠিত করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।