তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু: জামায়াত আমির

তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০৬

আপডেট: ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৫

তিস্তা এ অঞ্চলের অহংকার উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‌'কথা দিচ্ছি, তিস্তাকে আমাদের অগ্রাধিকার দিন। তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও আমরা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করবো। বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ এই অঞ্চলের সড়ক ও রেলপথের আধুনিক উন্নয়ন করা হবে।'

বুধবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, 'উত্তরাঞ্চল দীর্ঘকাল অবহেলিত। আমরা এখান থেকেই উন্নয়নের বীজ রোপণ করতে চাই। দীর্ঘদিন জাতিকে বিভক্ত করে একদল মতলববাজ চাঁদাবাজি ও ব্যবসা করেছে, আমরা তা বন্ধ করবো। উত্তরাঞ্চলকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে।'

দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‌'ওরা রাজনীতির নামে দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতি আর রাজনীতি একসঙ্গে চলে না। ওদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমি শুধু জামায়াতের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় মানে জনতার বিজয়।'

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'এ দেশের মানুষ তোমাদের অনেক দেখেছে, এখন বিশ্রামে যাও। এবার আমাদের একটু সুযোগ দাও। আমরা বসন্তের কোকিল নই, আমরা দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করবো।'

তিনি বলেন, ‌‍'মানুষ পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এখানে দুটি ভোট- একটি ‘হ্যাঁ’, যা আজাদির প্রতীক; অন্যটি ‘না’, যা গোলামির প্রতীক। আপনারা প্রথম ভোটটি ‘হ্যাঁ’-তে দেবেন। দ্বিতীয়টি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।'

ভীতি দূর করার আশ্বাস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, 'একদল ভয়ে আছে কিন্তু ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবো এবং সবাইকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়বো। আমরা জীবন দেবো, তবুও মা-বোনদের গায়ে হাত দিতে দেবো না। নারী জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।'

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে জনসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে জামায়াত আমির কুড়িগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে করে তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে পৌঁছান।