জনশক্তির ওপর ভর করে দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

জনশক্তির ওপর ভর করে দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:১৫

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দানে উত্তাপ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁওয়ে এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনমানুষের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে। জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থনের ওপর ভিত্তি করেই একটি সমৃদ্ধ ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী শ্রেণির নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখান যেখানে ব্যবসায়ীরা নির্ভয়ে বাণিজ্য করতে পারবে এবং চাকরিজীবীরা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারবে। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ কথা বলার স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের ফলে তরুণদের কর্মসংস্থান থমকে গেছে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হিসেবে তিনি আসন্ন নির্বাচনকে কেবল জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেন।

ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়বাসীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে তারেক রহমান একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করা হবে। এছাড়া এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে চিনিকল ও চা শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি একটি আধুনিক আইটি পার্ক এবং ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ এবং কৃষকদের জন্য বিশেষায়িত 'কৃষি কার্ড' চালুর ঘোষণা দেন বিএনপি প্রধান। উল্লেখ্য যে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং বেসরকারি সংস্থা থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিশোধের মতো সাহসী পদক্ষেপের ঘোষণা এই সমাবেশে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে।

নারীদের ক্ষমতায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও তারেক রহমান তাঁর দলের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে এবং প্রতিটি শিশু যাতে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করা হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে তিনি ১৯৭১ ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না; হাজার বছরের ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রত্যেক ধর্মের মানুষ এখানে সমান অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করবে। পরিশেষে, দেশের মালিক জনগণের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তিনি একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।