জামায়াত নেতার ধাক্কায় বিএনপি নেতা কচির মৃত্যু

জামায়াত নেতার ধাক্কায় বিএনপি নেতা কচির মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৪

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিফুজ্জামান কচির (৫৮) মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভেতরে জামায়া নেতা ও আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচিকে সজোড়ে ধাক্কা দেন পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রের ভেতরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও স্থানীয় এক জামায়াত নেতার ধাক্কায় মহিফুজ্জামান কচি পড়ে যান এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় মহিফুজ্জামান কচি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে জামায়া নেতার সাথে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান।

পরে উপস্থিত লোকজন তাকে দ্রুত খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি সম্ভবত গুরুতর শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজন হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ দেখেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। 

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে আমরা হারালাম। আমরা দাবি করছি, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।'

বিএনপির স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, এটি ‘পরিকল্পিত হামলা’র অংশ হতে পারে এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক ভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

খুলনা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রাথমিক ভাবে এটি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

মহিফুজ্জামান কচির আকস্মিক মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের তদন্তের দিকে এখন সবার নজর।