দেশের জনগুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য খাত বর্তমানে একটি ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতির’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গভীর উদ্বেগের কথা জানান।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুরো স্থাপনাটি পরিদর্শন করার পর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান এই বিশেষায়িত হাসপাতালে এমআরআই এবং সিটি স্ক্যানের মতো অতি জরুরি রোগ নির্ণয় পরিষেবার অভাব রয়েছে। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং জরুরি প্রয়োজনে অনেককেই অন্য বেসরকারি কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করতে হচ্ছে, যা জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে থাকা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
১৯৭২ সালে মাত্র ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হাসপাতালটি বর্তমানে ৭০০ শয্যায় উন্নীত হলেও ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্য করেছেন যে, সারাদেশ থেকে আসা শিশুদের ভিড়ের কারণে কর্তৃপক্ষ অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক হলেও অবকাঠামোগত সংকট, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং শয্যা স্বল্পতাকে তিনি এই খাতের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বাজেট বরাদ্দের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের বাজেট গত বছরের ৩০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। একে ‘পদ্ধতিগত অবহেলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, তার দল মহান সংসদে এই বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে এবং শিশু স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য চাপ সৃষ্টি করবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের এই নাজুক অবস্থার সমালোচনা করে তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, অথচ সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী জরুরি প্রস্তুতি এখনো অপর্যাপ্ত। পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি ব্রঙ্কোস্কোপ যন্ত্রের অনুরোধ জানানো হলে ডা. শফিকুর রহমান তার দলের নিজস্ব তহবিল থেকে এটি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।
পরিশেষে তিনি স্বাস্থ্য খাতের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এই খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করা সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত।
Tag:
আরো পড়ুন: