বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ানোর আশঙ্কা নাহিদের

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ানোর আশঙ্কা নাহিদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬ ২০:১২

আপডেট: ৭ মে, ২০২৬ ২১:০৮

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, 'পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফলের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।'

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফলের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।'

তিনি বলেন, 'সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এসব ভোটারের অধিকাংশ ছিলেন মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।'

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও ভোটাধিকার হরণের ঘটনা বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের পরও সেখানে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।'

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশবিরোধী ও দেশের স্বার্থবিরোধী গোষ্ঠী নানা ধরনের উসকানি ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।'

নাহিদ ইসলাম বলেন, 'দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য বাংলাদেশকে সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাংলার মুসলমান, দলিত ও মতুয়া সম্প্রদায়সহ সবার অধিকারের পক্ষে বাংলাদেশকে কথা বলতে হবে।'

অনুষ্ঠানে এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। দলটির আহ্বায়ক বলেন, 'আমরা নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রাখবো না। যে যেখান থেকেই আসুক, এনসিপির পতাকাতলে সবাই যোগ্যতা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবো। কারণ, ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।'