ইসলামী ব্যাংককে উদ্ধারে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত: ডা. শফিকুর রহমান

ইসলামী ব্যাংককে উদ্ধারে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬ ২২:৫৯

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, 'ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের দখল বা নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা জনগণ মেনে নেবে না। ইসলামী ব্যাংককে উদ্ধারের জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত।'

বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, 'সরকার ইসলামী ব্যাংককে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানি করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।'

তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। আবারও ফ্যাসিবাদী কায়দায় ব্যাংকখাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। ইসলামী ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'

সরকারকে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সমালোচনা করেন তিনি।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, 'দেশ এমন ভাবে চলতে পারে না।'

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করব। জামায়াতে ইসলামী কখনো গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে না।'

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, 'চাঁদাবাজ কোনো দলের নয়, এরা বসন্তের কোকিল। দেশের ৩০০ জন সংসদ সদস্য যদি ঐক্যবদ্ধ ভাবে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে চাঁদাবাজি দূর করা সম্ভব।'

তিনি বলেন, 'বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ এবার ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। বিশেষ করে ইরান, লেবানন ও গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঈদ কাটিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানিখাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে দেশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'দেশের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা যদি কৃত্রিম হয় তাহলে দ্রুত সমাধান করতে হবে। আর যদি প্রাকৃতিক বা বৈশ্বিক কারণে হয়ে থাকে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।'

জ্বালানিখাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, 'দেশে গ্যাসের মজুত কমে যাচ্ছে, কিন্তু নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।' তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাসের দাম ৬ থেকে ৭০০ টাকা বাড়িয়ে পরে ৫০ টাকা কমানো জাতির সঙ্গে তামাশার শামিল।

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিগগিরই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।'

তিনি আরও বলেন, 'দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের জন্য বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।'

ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে কাফরুল পশ্চিম থানা সেক্রেটারি এস এম রায়হানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা.ফখরুদ্দিন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম প্রমুখ।