জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, 'গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিচারের কাঁঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে আর সংস্কার না করায় বিএনপি জনগণের কাঁঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সমান ভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।'
মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর বিজয়নগরে ঢাকা মহানগর ১১ দলীয় ঐক্য সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, 'আজ আমরা এখানে জড়ো হয়েছি বিচারের দাবিতে। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, আমাদের জন্য হতাশার। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরের মাথায়ও বিচারের দাবিতে আমাদের রাজপথে হাজির হতে হচ্ছে।'
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'এই সমাবেশ থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলছি, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ও ওসমান হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার করতে না পারলে এ সরকার পাঁচ বছর টিকতে পারবে না।'
এনসিপির এ নেতা বলেন, 'নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর গত চার মাসে আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) নতুন কোনো রায় হয়নি, নতুন কোনো তদন্ত রিপোর্ট এখন পর্যন্ত দাখিল হয়নি। এতে স্পষ্ট যে, নতুন যাকে (আইনমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। নতুন যোগ্য কাউকে দায়িত্বে বসাতে হবে, যিনি গণহত্যার বিচার করতে সক্ষম হবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।'
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন বিষয়ে তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ বিগত ষোলো-সতেরো বছরে এ দেশের সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর অসংখ্য গুম, খুন ও গণহত্যা চালিয়েছে। তার ফলশ্রুতিতে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিচারের কাঁঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে আর সংস্কার না করায় বিএনপি জনগণের কাঁঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সমান ভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সংস্কার, বিচার এবং এ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ১১ দলীয় ঐক্য সংসদ ও সংসদের বাইরে লড়াই চালিয়ে যাবে।'
সরকারের তিন মন্ত্রণালয়কে দায়ী করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'বিচার করতে না পারার কারণে আইনমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। নিরাপত্তা দিতে না পারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। গণমাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন ঠেকাতে না পারায় তথ্যমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। সবকিছু বাংলাদেশের জনগণ দেখছে।'
তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগের শেকড় দিল্লিতে, এ জন্য তাদের আশ্রয় হয়েছে দিল্লিতে। তারা ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ ৫ আগস্ট সমাপ্ত হয়ে গেছে। যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার স্বপ্ন দেখছে তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতোই হবে।'
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
Tag:
আরো পড়ুন: