চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, 'চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নালা-নর্দমা উপচেপড়ে জনদুর্ভোগ বাড়ে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।' এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, 'জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখা, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সরকারের করণীয় বিষয়ে দাবি জানাতেই এ সফর।'
সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ডা. শফিকুর রহমান।
সফরসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, 'বিমানবন্দর থেকে তারা বাঁশখালী যাবেন। সেখান থেকে ফেরার পথে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া এবং পরে চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'দলের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সহযোগিতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দলের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভাবে এসব কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।'
দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'বর্তমানে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ এই চার বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বছরের মতো এবারও পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।'
তিনি বলেন, 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তাদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে জানানো হচ্ছে। সরকার এ বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে। এখন জনগণ সেই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন দেখতে চায়। প্রকল্পটি বড় হওয়ায় সময় লাগতে পারে, তবে এর কাজ দৃশ্যমান ভাবে শুরু করা প্রয়োজন।'
আরো পড়ুন: