বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের

বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৪

আপডেট: ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৪

দেশজুড়ে আকস্মিক বন্যা, অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িক ভাবে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার পৃথক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি এ দাবি জানায়।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি মানবিক বিবেচনায় এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে ছাত্রদলের নেতারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান অতিবর্ষণ, সাত জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার কারণে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক বিপর্যয় এবং চরম যাতায়াত সংকটের মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও সাময়িক ভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বন্যায় ইতোমধ্যে দেশের সাত জেলায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জনে। উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ছাত্রদলের ভাষ্য, বন্যাকবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা সাময়িক ভাবে পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা মানসিক ভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের একটি বড় অংশের পরীক্ষার্থী সংকটে থাকলেও পরীক্ষা চালিয়ে গেলে মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার উন্নতি, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পরীক্ষার উপযোগী হওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িক ভাবে স্থগিত রেখে পরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা উচিত।

ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়ে সংবেদনশীল থাকবে বলে তারা আশা করেন। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। অসংখ্য উপজেলা ও শহরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে, যা পরীক্ষা গ্রহণের অনুকূল পরিবেশকে বিনষ্ট করেছে। এমন জাতীয় সংকটের মুহূর্তে বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরীক্ষার পরিবেশকে মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত করছে। তাই চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতা ও উপযুক্ত পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ চরম প্রতিকূলতা ও বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্লাবিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করে প্রতিকূল পরিবেশে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের এই অনমনীয় অবস্থান শিক্ষার্থীদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কোনো ভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব বা মানবিক হতে পারে না।

শিবির সভাপতি ও সেক্রেটারি বলেন, এই দুর্যোগের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথেও। চলমান পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা এবং মাঠপর্যায়ের অব্যবস্থাপনার কারণে পরীক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে তাদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, সুযোগ ও মেধা বিকাশ নেতিবাচক ভাবে প্রভাবিত হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যেকোনো সংকটে শিক্ষার্থীদের জীবন, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া এবং পরীক্ষা পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।