যৌন হয়রানির অভিযোগ জাহানারার, পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবি

যৌন হয়রানির অভিযোগ জাহানারার, পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:৪৬

আপডেট: ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:১৩

এবার যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের সাবেক নারী ক্রিকেট অধিনায়ক জাহানারা আলম। এর আগে দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন এই নারী ক্রিকেটার।

ক্লাব ক্রিকেট খেলতে গত কয়েক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন জাহানারা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল মঞ্জু, প্রয়াত নারী দলের ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদ, ম্যানেজার ফাইয়াজ, আরেক কর্মকর্তা বাবু, কোচ ইমন, ক্রিকেটার জ্যোতি, পিংকি, নাহিদা, রিতুমনি রয়েছে তার নতুন অভিযুক্তের তালিকায়। যার মধ্যে মঞ্জু এবং তৌহিদকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন জাহানারা। 

তিনি বলেন, ‘উনি (মঞ্জুরুল ইসলাম) একদিন আমার কাছে আসলেন, আমার কাঁধে হাত রেখে বলছিলেন, তোর পিরিয়ডের কতদিন চলছে। পিরিয়ড শেষ হলে বলিস, আমার দিকটাও তো দেখতে হবে। পিরিয়ড শেষ হলে, যখন ডাকবো চলে আসিস।’ 

মঞ্জুকে নিয়ে অন্য এক অভিযোগে জাহানারা বলেন, ‘বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচে যখন আমরা লাইনে হ্যান্ডশেক করি, তখন তিনি (মঞ্জুরুল) হ্যান্ডশেক না করে জড়িয়ে ধরতেন।’

এসব অভিযোগ বিসিবিকে দিয়েও লাভ হয়নি বলে মন্তব্য করেন এই নারী ক্রিকেটার। তাই এখন আল্লাহ'র কাছে বিচার দিয়েছেন জাহানারা। তিনি বলেন, ‘দেড় বছরে অসংখ্যবার অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের যিনি হেড (তৎকালীন বিসিবির নারী উইঙ্গের হেড) নাদেল স্যার, উনাকে বার বার বলেছি। এক-দুই দিন ঠিক হতো, পরে আবার যা তাই।’

জাহানার এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও নড়েচড়ে বসেছে। এক বিবৃতিতে জাতীয় নারী দলের সাবেক এক সদস্যের করা অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারা সেখানে বলেছেন, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিসিবি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেবে।

বিসিবি জানায়, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। এমন ধরনের অভিযোগকে বিসিবি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত চলাকালে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে গণমাধ্যমসহ গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে মন্তব্য বা প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিসিবি। 

এদিকে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়টি নিয়ে চারটি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন বলে জানা গেছে। পদক্ষেপগুলো হলো-

১. সিইওকে স্পষ্ট করতে হবে তিনি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেয়েছিলেন কি না এবং কবে পেয়েছিলেন। যদি পেয়ে থাকেন, তবে কেন তিনি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি তা ব্যাখ্যা করতে হবে।

২. অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) কর্মরত থাকেন, তবে সিইওকে অবিলম্বে তাদের সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করতে হবে।

৩. সিইওকে আইন বিভাগের সহযোগিতায় দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আকারে বোর্ডে জমা দিতে হবে। তদন্তের ভিত্তিতে সিইও ভুক্তভোগীকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেবেন।

৪. সিইওকে ক্রিকেট অপারেশন্স ও মহিলা উইং-এর সঙ্গে যৌথ ভাবে নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে এর প্রতিবেদন বোর্ডে জমা দিতে হবে।