শেষ ষোলোর দৌড়ে ইউরোপের জায়ান্টরা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নির্ধারণী সপ্তাহ

শেষ ষোলোর দৌড়ে ইউরোপের জায়ান্টরা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নির্ধারণী সপ্তাহ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৫৫

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডে এই সপ্তাহে মাঠে নামছে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো, যেখানে এক রাতেই নির্ধারিত হবে শেষ ষোলোর সরাসরি টিকিট ও প্লে-অফের ভাগ্য। আগামী বুধবার একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে শেষ রাউন্ডের সব ম্যাচ, আর তাতেই পরিষ্কার হবে কারা যাবে শিরোপার দৌড়ে আর কারা পড়বে বাড়তি পরীক্ষায়।

ইতোমধ্যে কয়েকটি দল নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে, তবে এখনো শীর্ষ আটের দৌড় পুরোপুরি খোলা। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, টেবিলের প্রথম আট দল সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা পাবে। পরের ১৬ দলকে খেলতে হবে প্লে-অফ, যেখানে এক ম্যাচের ভুলেই ছিটকে যাওয়ার ঝুঁকি। যদিও গত মৌসুমে প্রমাণ মিলেছে, প্লে-অফ পেরিয়েও শিরোপা জেতা অসম্ভব নয়।

আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখ ইতোমধ্যে নিজেদের কাজ সেরে ফেলেছে। আর্সেনাল টানা সাত ম্যাচ জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে এবং শেষ ম্যাচে জয় পেলে নতুন লিগ পর্বে ইতিহাস গড়ার সুযোগও তাদের সামনে। অন্যদিকে বায়ার্নের একমাত্র হার এসেছে আর্সেনালের বিপক্ষে, আর শেষ ম্যাচে পিএসভি এইনডোভেনের মাঠে নামবে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।

রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে চাইছে বেনফিকার মাঠে জয় দিয়ে। একই লক্ষ্য লিভারপুলেরও, যারা অ্যানফিল্ডে কারাবাগকে হারালে সরাসরি নকআউটে উঠে যাবে। টটেনহ্যাম জানে, আইনট্রাখট ফ্র্যাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পেলেই তারা প্লে-অফের ঝুঁকি এড়িয়ে যাবে।

টেবিলের মাঝামাঝি জায়গাটা সবচেয়ে বেশি নাটকীয়। ষষ্ঠ থেকে ত্রয়োদশ—এই আটটি দলই ১৩ পয়েন্টে আটকে আছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সে নিউক্যাসলের মুখোমুখি হবে, যেখানে যেকোনো ফলই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। চেলসি আপাতত শীর্ষ আটের শেষ স্থানে থাকলেও নাপোলির মাঠে সাবেক কোচ আন্তোনিও কন্তের দলের বিপক্ষে তাদের অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিতে প্রস্তুত বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটি। নবম ও একাদশ স্থানে থাকা এই দুই দল জানে, ওপরে থাকা কোনো দল হোঁচট খেললেই তারা শীর্ষ আটে ঢুকে পড়তে পারে। পিএসজি ও নিউক্যাসলের ম্যাচে অন্তত একটি দল পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনা থাকায় এই দুই জায়ান্টের চোখ থাকবে সেই ফলাফলের দিকেই।

স্পোর্টিং লিসবন, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও আটালান্টাও সমীকরণের ভেতরেই আছে। ইন্টার ও জুভেন্টাস টানা কয়েক ম্যাচে পিছিয়ে পড়লেও তাদের নকআউট পর্বে ওঠা প্রায় নিশ্চিত। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডও নিরাপদ অবস্থানে, আর আজারবাইজানের কারাবাগ ইতিহাস গড়ার পথে, প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

তবে নিচের দিকেও উত্তেজনার কমতি নেই। ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন নাপোলি গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আপাতত শীর্ষ ২৪-এর বাইরে। শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প নেই। একই অবস্থা বেনফিকা ও আয়াক্সেরও। অন্যদিকে নতুন দল কাইরাত ও ভিয়ারিয়াল টিকে থাকার লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে, বুধবারের রাত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই লিগ পর্বের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর জন্য এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটি শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার বা বিদায়ের সন্ধিক্ষণ।