যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতির সঞ্চার করতে স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি বা ক্রীড়া কূটনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান।’
রোববার বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) আয়োজিত মিডিয়া কাপ ফুটবলের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বাফুফে আর্টিফিশিয়াল টার্ফে দাঁড়িয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজেই আমাকে জাইমা রহমানকে কাজে লাগানোর বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি বলেছি, তিনি যদি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন তবে সেটি আমাদের জন্য বড় একটি উৎসাহের জায়গা হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো সম্ভব। এশিয়ান ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ক্রীড়া কূটনৈতিক বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং আমাদের দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে সেগুলোকে সঠিক ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আমরা ভাবছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আলাদা স্পোর্টস উইং খোলা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথ ভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও অবদান রাখার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো- রোববার সকালে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রসঙ্গ টেনেছেন। তরুণ প্রজন্মের মাঝে তিনি যে উৎসাহ ও স্পিরিট দেখেছেন, সেটাকেই কাজে লাগিয়ে তিনি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আমি মনে করি, এটি বাংলাদেশের স্পোর্টসের জন্য একটি নতুন যাত্রার সূচনা।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তার পরিবারের ক্রীড়াপ্রেম নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে, তিনি কিন্তু তার বক্তব্যের মাধ্যমে সেই বহিঃপ্রকাশ জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি আমাদের এই জিয়া পরিবারের আরেকজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ, যার কথা আমি বলেছিলাম। তিনি বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং সমাজসেবী। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডাক্তার জুবাইদা রহমানও নতুন কুড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধনকে উপভোগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই আমাকে বলেছেন যে আমরা আজকে শুরু করলাম। আর এটাকে মনিটর করা এবং প্রত্যেকটি বিভাগ ও জেলায় সঠিক ভাবে খেলাধুলাগুলো ঠিক ভাবে হচ্ছে কি না, সেটা তদারকির নির্দেশনা দিয়েছেন।’
আমিনুল হক জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। এখন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ নিয়োগ আলোচনার তুঙ্গে। কয়েকজন হাই প্রোফাইল কোচ আবেদন করলেও বাফুফের তাদেরকে রাখার আর্থিক সাধ্য নেই। এই বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নিজেরাই যাচাই-বাছাই করে যাকে ভালো মনে করে তাকে নেবে। বাফুফে অফিশিয়ালি এখন পর্যন্ত আমাকে কিছু জানায়নি। আমি বিষয়টার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না। তাই যদি এই ধরনের কোনো সমস্যা ফেস করে, সে ক্ষেত্রে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘বাফুফে ফিফার অর্থায়নে কক্সবাজারে ট্যাকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ করবে। সেই অর্থ পাওয়ার পূর্ব শর্ত জমি বাফুফের নামে থাকতে হবে। সেই জমি পেতে বাফুফেকে আট কোটি টাকা প্রদান করতে হবে। সরকারের আর্থিক সহায়তা অথবা বিশেষ বিবেচনায় বিনা বা নামকওয়াস্ত মূল্য পরিশোধে হস্তান্তর ছাড়া বাফুফের এই জমি পাওয়া কঠিন।’
কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে বাফুফের এক্সিলেন্স সেন্টার নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) যে এক্সিলেন্স সেন্টারটি তৈরির কথা রয়েছে, সে বিষয়ে তারা আমাদের একটি বিষয় অবগত করেছে। আমি আমার সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি যেন এ বিষয়ে বাফুফেকে একটি অফিসিয়াল চিঠি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমরা একটি সভার মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করে বাফুফেকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা প্রদান করব এবং ইনশাআল্লাহ এই সমস্যার সমাধান করব।’
আরো পড়ুন: