সাকার গোলে দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান, বুদাপেস্টের টিকিট নিশ্চিত গানার্সদের

সাকার গোলে দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান, বুদাপেস্টের টিকিট নিশ্চিত গানার্সদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২৬ ১৫:০৭

দীর্ঘ দুই দশকের আক্ষেপ ঘুচিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চূড়ান্ত লড়াইয়ে জায়গা করে নিল আর্সেনাল। ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে (অ্যাগ্রিগেটে ২-১) পরাজিত করে ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরার মঞ্চে নাম লিখিয়েছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। গানার্সদের এই ঐতিহাসিক জয়ে নায়ক বনে গেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা।

গত মৌসুমে সেমিফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর কাছে হেরে বিদায় নিলেও, এবার আর ভুল করেনি উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। গত রাতের এই জয় কেবল ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, বরং প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের 'ডাবল' জেতার সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় কালকের ম্যাচটি ছিল কার্যত অলিখিত ফাইনাল। এমিরেটসে শুরু থেকেই দুই দল ছিল যথেষ্ট সতর্ক। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় মাঝমাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও বিরতির ঠিক আগে উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। ৪৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের জোরালো শট আতলেতিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন বুকায়ো সাকা। ভিক্টর ডিয়োকারেসের সাজানো আক্রমণ থেকে আসা বলটি জালে জড়াতে ভুল করেননি এই ফরোয়ার্ড।

তবে জয়ের পথটি আর্সেনালের জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। দিয়াগো সিমিওনের আতলেতিকো মাদ্রিদ সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়েছে। প্রথমার্ধে জিউলিয়ানো সিমিওনেকে গোলবঞ্চিত করতে ডেকলান রাইসের করা দুর্দান্ত একটি ট্যাকল ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সিমিওনেকে রুখে দেন রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী গ্যাব্রিয়েল।

ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল আর্সেনালও। বদলি খেলোয়াড় পিয়েরো হিনকাপিয়ের ক্রস থেকে ডিয়োকারেস গোল করার সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠ জুড়ে শুরু হয় গানার্স সমর্থকদের উৎসব। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে হারের পর এটিই হবে তাদের প্রথম ফাইনাল।

আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে আর্সেনাল মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা প্যারিস সেন্ট জার্মেইর। এখন দেখার বিষয়, ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার ইউরোপের শীর্ষ মুকুটটি নিজেদের শোকেসে তুলতে পারে কি না আর্তেতার এই অপ্রতিরোধ্য বাহিনী।