‘ফকল্যান্ড’ ব্যানার বিতর্কে ফিফার তদন্ত, আর্জেন্টিনার পাশে হোয়াইট হাউজ

‘ফকল্যান্ড’ ব্যানার বিতর্কে ফিফার তদন্ত, আর্জেন্টিনার পাশে হোয়াইট হাউজ
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২৭

আপডেট: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৭

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। তবে খেলোয়াড়দের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হোয়াইট হাউজের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের এমন মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আলোকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট ফিফার তদন্তকে সমর্থন জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, “বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।” তিনি আরও জানান, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা ফিফার সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে ঘটনাটি তদন্ত হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

বুধবার (১৬ জুলাই) বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে ‘Las Malvinas Son Argentinas’ (ফকল্যান্ড/মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।

এ ঘটনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকারও হতাশা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, খেলাধুলায় রাজনৈতিক বার্তা আনা উচিত নয় এবং ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের স্বশাসিত বিদেশি অঞ্চল। তবে আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপপুঞ্জটির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা, তিনজন দ্বীপবাসী এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন। যুদ্ধ শেষে দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাজ্যের হাতে থাকে।

২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে ফকল্যান্ডের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দা যুক্তরাজ্যের বিদেশি অঞ্চল হিসেবেই থাকার পক্ষে ভোট দেন।

এদিকে, আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “মালভিনাস আমাদের রক্তে ও হৃদয়ে রয়েছে।”

এ ঘটনায় ফিফার তদন্ত শেষ হলে আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।