কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেখা করতে পারেনি তার পরিবারের কেউ। তিনি মারা গেছেন- বলেও গুঞ্জন উঠেছে। ইমরান খানের মৃত্যু গুজব দিন দিন তীব্র হলেও তার কোনো খোঁজ দিচ্ছিল না দেশটির বর্তমান সরকার ও রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন পর তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি মিলেছিল তার বোনের।
পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম ডন জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে উজমা খানুম জেলের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় জেলের বাইরে কয়েকশ তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) কর্মী জড়ো হয়ে ইমরানের স্বাস্থ্য ও পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা দাবি করেন।
জেল থেকে বেরিয়ে উজমা বলেছেন, ‘সে (ইমরান খান) খুব রেগে আছে। তার উপর মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।’
তবে ইমরান খান পুরোপুরি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আধা ঘণ্টার সাক্ষাৎ শেষে উজমা খানুম জানিয়েছেন, তার ভাইকে সারা দিন জেলের একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। বাহিরে যেতে দিচ্ছে খুব অল্প সময় এবং কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতেও দিত না জেল কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার আদিয়ালা জেল ও ইসলামাবাদ হাই কোর্টের বাইরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে বাধার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছিল পিটিআই। দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপিকে) মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানান, ২৭ অক্টোবর থেকে কেউ ইমরান বা তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এ ঘটনায় ক্ষোভ বেড়েছে দেশটিতে।
পিটিআই বিক্ষোভের আগে দেশটির দুই বড় শহর ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশটির মন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, সেকশন ১৪৪ কঠোর ভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং যারা আইন অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশ, আদালত বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ভয় সৃষ্টি ও সংবাদ তৈরি করতে ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা দেশটির সরকারের।
ওই মন্ত্রী বলেন, সরকার ও পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি (পিটিএ) মিলিত ভাবে সাইবার নিরাপত্তা ও ভিপিএন ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তবে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডি থেকে ইসলামাবাদে নেওয়ার গুঞ্জনও উঠেছে। ওই প্রশ্নের জবাবে তালাল চৌধুরী বলেছেন, ‘ইমরানকে আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদে স্থানান্তরের বিষয় এখনও নিশ্চিত নয়। ইসলামাবাদে নতুন জেলের নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। এরপর কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাই আপাতত সেটি নিশ্চিত নয়।’
৭২ বছর বয়সী ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতা হারানোর পর একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
ইমরান দাবি করেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার রাজনৈতিক দল পিটিআই মনে করছে, এই মামলাগুলো তার রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নির্বাচনী অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: