মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিতের মধ্যে ভেনেজুয়েলা সরকার বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে এই বন্দি মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেলসমৃদ্ধ দেশটিতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ভেনেজুয়েলার নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম বড় পরিসরে রাজনৈতিক বন্দি মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলো। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র। তার বক্তব্য অনুযায়ী , ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেল ও কৌশলগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে অগ্রগতি হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি একটি উদাহরণ, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ও মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগাচ্ছে।”
ভেনেজুয়েলার সংসদের স্পিকার এবং শীর্ষ সরকারি নেতা জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, “শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদেশি নাগরিকসহ বিপুল সংখ্যক বন্দিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।” তবে কতজন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, কোন কোন কারাগার থেকে বা কী অভিযোগে আটক ব্যক্তিরা মুক্তি পাচ্ছেন—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী এবং সরকারবিরোধী সমালোচকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটক রাখা হয়েছিল।
এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক অডিও বার্তায় তিনি বলেন, “অবিচার কখনো স্থায়ী হয় না। সত্য হয়তো কষ্টদায়ক হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পথ সে নিজেই খুঁজে নেয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বন্দি মুক্তি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলতে পারে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক উন্নয়নের পথও খুলে দিতে পারে। তবে রাজনৈতিক বন্দি মুক্তির এই প্রক্রিয়া কতটা বিস্তৃত হবে এবং তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংস্কারে রূপ নেবে কি না—সেদিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
আরো পড়ুন: