ভেনেজুয়েলা সীমান্তে সক্রিয় মাদক পাচারকারী গেরিলা গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথভাবে অভিযান চালাতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়া। দেশটির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপের পর এই সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্দো বেনেদেত্তি।
বৃহস্পতিবার ব্লু রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেনেদেত্তি বলেন, কলম্বিয়ার অবশিষ্ট বড় সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন)-এর বিরুদ্ধে উভয় দেশ একযোগে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তার ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট পেত্রো ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সীমান্তে সক্রিয় গেরিলা ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই ফোনালাপটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হয়, যখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকিকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আলোচনাটি সেই উত্তেজনা প্রশমনের একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ।
কলম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইএলএন গোষ্ঠীটি কলম্বিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা ও অপহরণ চালানোর পর ভেনেজুয়েলায় পালিয়ে গিয়ে সেখানে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। বেনেদেত্তি জানান, এ কারণেই প্রেসিডেন্ট পেত্রো ট্রাম্পের কাছে ভেনেজুয়েলা সীমান্ত এলাকায় ইএলএনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছেন।
কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই বিস্তৃত সীমান্ত অঞ্চল বহু বছর ধরেই মাদক পাচার, অবৈধ খনিজ উত্তোলন এবং চোরাচালান নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
এদিকে, বিলুপ্ত এফএআরসি গোষ্ঠীর একটি বিচ্ছিন্ন অংশের নেতা ইভান মর্ডিসকো সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়া এখন “একই শত্রুর মুখোমুখি”। তিনি অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সব ধরনের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি একটি বৃহত্তর বিদ্রোহী জোট গঠনের কথাও উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে পেত্রোকে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সমালোচনা করেন। এর জবাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট যেকোনো সম্ভাব্য বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তবে এসব উত্তেজনার মধ্যেও পেত্রো ট্রাম্পের ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ওয়াশিংটন ও বোগোটা কয়েক দশক ধরে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার অংশীদার। যদিও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দিয়েছে, সাম্প্রতিক এই সমঝোতাকে বিশ্লেষকরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গেরিলা দমন ও মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগ সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই পদক্ষেপ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আঞ্চলিক সমন্বয় এবং ভেনেজুয়েলার ভূমিকার ওপর।
আরো পড়ুন: