পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে একটি মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাজধানীর তারলাই এলাকায় অবস্থিত মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়।
সূত্র আরও জানায়, হামলাকারী একজন বিদেশি নাগরিক ছিলেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে মসজিদের গেটে তিনি বিস্ফোরণ ঘটান।
ঘটনার পর পরই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই হামলাটি এমন এক সময় ঘটলো, যখন কয়েক দিন আগেই বেলুচিস্তানে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র চালানো একাধিক হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২২ জন নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিহত হন।
৩১ জানুয়ারি কুয়েটা, মাস্তাং, নুশকি, দলবানদিন, খারান, পাঞ্জগুর, তুম্প, গওয়াদার ও পাসনি এলাকায় এসব হামলা সংঘটিত হয়।
এর একদিন আগে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ‘অপারেশন রাদ্দুল ফিতনা-১’ সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন সমন্বিত অভিযান ও ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে অন্তত ২১৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
এসব হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসি ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ বহু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নিন্দা জানিয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, ২৯ জানুয়ারি পাঞ্জগুর ও হারনাই জেলার উপকণ্ঠে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এসব অভিযানে ভারতীয় মদদপুষ্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ৪১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে বেলুচিস্তানে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দাভিত্তিক আরও অভিযান চালিয়ে স্লিপার সেল ধ্বংসের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ, এএফপি।
Tag:
আরো পড়ুন: