ওমানে ট্রাম্প-তেহরান গোপন বৈঠক; পারমাণবিক উত্তেজনা নিরসনে ‘ইতিবাচক’ অগ্রগতির আভাস

ওমানে ট্রাম্প-তেহরান গোপন বৈঠক; পারমাণবিক উত্তেজনা নিরসনে ‘ইতিবাচক’ অগ্রগতির আভাস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২২

আপডেট: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২২

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনাকে ‘খুবই ভালো’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ সংঘাতের পর ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত এই আলোচনার পর উভয় পক্ষই ইতিবাচক পরিবেশের প্রশংসা করেছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতেই পুনরায় বৈঠকে বসার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে আলোচনার ইতিবাচক আবহ বজায় থাকলেও তেহরানকে সতর্ক করে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যদি ইরান কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তার পরিণাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

মাস্কাটের এই আলোচনা মূলত ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর মতে পরমাণু বোমা তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে পরিচালিত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এই বৈঠককে একটি ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে পারস্পরিক যুক্তি ও মতামত বিনিময় করা হয়েছে। তেহরান তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ দাবি করে এর ওপর অটল থাকলেও আব্বাস আরাকচি আশা প্রকাশ করেছেন যে ওয়াশিংটন ‘হুমকি ও চাপ’ দেওয়ার নীতি থেকে সরে আসবে যাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। অন্যদিকে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দল চেয়েছিল তেহরানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও আলোচনার এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করতে, যদিও ইরান আপাতত পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে আগ্রহী।

এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে চলছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরীসহ একটি নৌবহর অবস্থান করছে। গত জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা থেকে সরে এসে এটিই দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে প্রথম সরাসরি কোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। উল্লেখ্য যে, মাস্কাটে আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাহাজ পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। যদিও এই পদক্ষেপটি সরাসরি আলোচনার ফলাফল কি না তা স্পষ্ট নয়, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন ওমানের এই মধ্যস্থতা বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।