ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রস্তুতি

ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩২

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহব্যাপী বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে দুইজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চূড়ান্ত আক্রমণের নির্দেশ দেন, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

পেন্টাগন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান এবং গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হচ্ছে, যা আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর সক্ষমতা বাড়াবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, ইরান বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি যেকোনো সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-স্বার্থ বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের সামরিক পরিকল্পনা আগের তুলনায় বেশি জটিল এবং বিস্তৃত। অতীতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নজির থাকলেও তা ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক, তবে বর্তমান পরিকল্পনায় ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন আলোচনা সামনে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ সতর্ক করছে, ইরানের বড় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের কারণে এই ধরনের অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক মাত্রা নিতে পারে।

এই সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড। তারা জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে। তাদের বক্তব্যের সুর থেকে বোঝা যাচ্ছে, কোনো হামলা হলে তেহরান এটিকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সংঘাত হিসেবে দেখবে না; বরং আঞ্চলিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকেও লক্ষ্যবস্তু করার বার্তা দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্ষেত্রবিশেষে ‘ভয়’ দেখানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে—যা ওয়াশিংটনের চাপ-ভিত্তিক কৌশলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন একটি চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের খবর, কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং পাল্টা হুঁশিয়ারির ধারাবাহিকতায় যে কোনো ভুল হিসাব বা আকস্মিক ঘটনা দ্রুত বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।