যুদ্ধের বিপক্ষে তবে অধিকার রক্ষায় অটল: মোজতবা খামেনি

যুদ্ধের বিপক্ষে তবে অধিকার রক্ষায় অটল: মোজতবা খামেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৫০

এক চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার আবহে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বিশ্ববাসীকে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি কোনো যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ ও ন্যায্য অধিকারের প্রশ্নে ইরান বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ হামলায় পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনির এই বার্তাটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা আগেও যুদ্ধ চাইনি, এখনও চাই না। কিন্তু নিজেদের অধিকার রক্ষায় আমরা অটল থাকব।” বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হিজবুল্লাহর চলমান সংঘাতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি ‘প্রতিরোধ জোটকে’ ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, মোজতবা খামেনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি। বাবার ওপর চালানো সেই হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমনকি তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হলেও তেহরান সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভাষ্যমতে, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। জনসমক্ষে না এলেও তার লিখিত বার্তাগুলোই এখন ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করছে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আলোচনার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে মোজতবা খামেনি সতর্ক করেছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও জনগণের আন্দোলন বা রাজপথে সরব উপস্থিতি বন্ধ হওয়া উচিত নয়। তিনি মনে করেন, জনগণের কণ্ঠস্বরই আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার এই নাজুক সময়ে ইরানের এই নমনীয় অথচ দৃঢ় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তেহরান যদি দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে সম্মত হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামের স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে ‘প্রতিরোধ জোট’ নিয়ে তার অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, হিজবুল্লাহ বা হামাসের মতো মিত্রদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইরান কোনো চুক্তিতে যাবে না।