২০২৬-এর মার্চে সমুদ্রের তাপমাত্রা রেকর্ড তাপমাত্রার

২০২৬-এর মার্চে সমুদ্রের তাপমাত্রা রেকর্ড তাপমাত্রার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:১৬

পৃথিবীর বিশাল জলরাশি বা সমুদ্রের তাপমাত্রা এখন এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ শুক্রবার এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২০.৯৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ইতিহাসের পাতায় মার্চের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে নথিভুক্ত হলো, যা কেবল ২০২৪ সালের ভয়াবহ গরমের সময়কার রেকর্ডের ঠিক নিচে অবস্থান করছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা মূলত ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির এই প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন চক্র যখন মানবসৃষ্ট কার্বন নিঃসরণজনিত তাপের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা বৈশ্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) আগেই জানিয়েছিল যে, সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমিয়ে রাখা ‘লা নিনা’ চক্রের প্রভাব শেষ হয়ে পরিবেশ এখন একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে, যা বছরের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গ ‘এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে।

২০২৬ সালের মার্চ মাসটি সামগ্রিকভাবে ইতিহাসের চতুর্থ উষ্ণতম মার্চ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ১.৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করার উপক্রম। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবং সুমেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে সমুদ্রের বরফের স্তর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়াকে বিজ্ঞানীরা ‘অশনীসংকেত’ হিসেবে দেখছেন।

কোপার্নিকাসের পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৬ সালের মার্চের উপাত্তগুলো কেবল সংখ্যা নয়, বরং জলবায়ু ব্যবস্থার ওপর অব্যাহত চাপের একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা। মানুষের কর্মকাণ্ডে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপের সিংহভাগই সমুদ্র শুষে নেয়। কিন্তু সমুদ্র যখন নিজেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন তার ফলাফল হয় বিধ্বংসী শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি।

আর্কিটিক ও অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলের অস্বাভাবিক উষ্ণতা এবং উত্তর গোলার্ধের তীব্র গরম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসছে দিনগুলোতে চরম আবহাওয়ার প্রকোপ আরও বাড়বে। ১৯৪০ সাল থেকে আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করা কোপার্নিকাস সংস্থাটি মনে করে, যদি দ্রুত কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে সমুদ্রের এই ক্রমবর্ধমান তাপ বৈশ্বিক বাস্তুসংস্থান ও মানব সভ্যতার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।