দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ইসলামাবাদ আলোচনার প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায় পাকিস্তানে নির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের এই কূটনৈতিক বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে, তবে আলোচনা শুরুর আগে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের পৌঁছানোর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এবারের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’ উন্মুক্ত করে দেওয়া। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান ওই কৌশলগত জলপথে জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তেলের দাম ও বৈশ্বিক সরবরাহের স্থিতিশীলতা রক্ষায় হরমুজ প্রণালীকে একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, তেহরান অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকা নিয়ে। ইরানের দাবি, এই হামলাগুলো পরোক্ষভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তিরই লঙ্ঘন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব ফ্রন্টে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তবে আলোচনার কোনো অর্থ থাকবে না। লেবাননে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে ইরান এই আলোচনায় অংশগ্রহণ থেকে পিছিয়ে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস অবশ্য জানিয়েছে যে, তারা এখনো যুদ্ধবিরতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং নতুন করে কোনো দেশে হামলা চালায়নি। তবে হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরান কৌশলে জ্বালানি রুট আটকে রেখে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সার, গ্যাস এবং জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার একটি বিশাল অংশ এই জলপথ দিয়ে বাহিত হয় বিধায় এই অচলাবস্থা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং এই সংকীর্ণ সময়ে আলোচনার আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করা এখন আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের নতুন করে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘাত এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসলামাবাদে যদি শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি আলোর মুখ না দেখে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরো পড়ুন: