ইসরায়েলের সাথে সরাসরি সংলাপে আগ্রহী লেবানন; তবে মানতে হবে বৈরুতের কঠিন শর্ত

ইসরায়েলের সাথে সরাসরি সংলাপে আগ্রহী লেবানন; তবে মানতে হবে বৈরুতের কঠিন শর্ত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৪

আঞ্চলিক উত্তেজনার চরম মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে লেবানন আগামী সপ্তাহেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তুতি শুরু করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রথম সামনে এনেছে বিবিসি। তবে এই আলোচনার জন্য বৈরুত একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে—আলোচনা শুরুর আগেই একটি পূর্ণাঙ্গ এবং যাচাইযোগ্য যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হতে হবে।

লেবানন ও ইসরায়েল ঐতিহাসিকভাবে একে অপরের শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত এবং ঐতিহাসিকভাবেই তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সরাসরি আলোচনার এই প্রস্তাবকে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

লেবাননের ঐ সরকারি কর্মকর্তা জানান, সরকার আলোচনার টেবিলে বসার ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান বা আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বৈরুতের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সব ফ্রন্টে শত্রুতা সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সরাসরি বৈঠক সম্ভব নয়। এই পূর্বশর্তটি লেবাননের কাছে 'অ-আলোচনাযোগ্য' বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপের ঘটনা বিরল হলেও এটি একেবারে নজিরবিহীন নয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর মার্কিন দূতদের মাধ্যমে যে সীমিত কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল, তা গত কয়েক বছর ধরে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদি প্রস্তাবিত এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়, তবে তা হবে সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে উভয় পক্ষের ওপর চরম উত্তেজনা পরিহার এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা গভীর অবিশ্বাস, অমীমাংসিত নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক বিবাদ দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার পথে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয় এবং দুই পক্ষ মুখোমুখি বসে, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি রুটের নিরাপত্তাতেও একটি নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দেবে।