যুক্তরাজ্যের ফ্ল্যাগশিপ সংবাদ মাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনে (বিবিসি) কর্মরত রয়েছেন ২১ হাজার ৫০০ জন। সেখান থেকে প্রায় দুই হাজার জন কর্মীকে ছাঁটাই করবে বিবিসি। সেই হিসেবে ছাঁটাইয়ের মুখে থাকা কর্মীরা শতকরা হিসেবে বিবিসি'র মোট কর্মী বাহিনীর ১০ শতাংশ।
এর আগে ২০১১ সালে একবার এমন বিপুল কর্মী ছাঁটাই হয়েছিল। তারপর ২০২৫ সাল পর্যন্ত এত বড় আকারে ছাঁটাই বিবিসিতে হয়নি।
বুধবার লন্ডনে বিবিসি'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অল-স্টাফ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ মে বিবিসি'র নতুন মহাপরিচালক পদে আসছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী এবং ইএমইএ বিজনেস গ্রুপের কর্ণধার ম্যাথিউ জন ব্রিটিন, যিনি ম্যাট ব্রিটিন নামেই বেশি পরিচিত। ম্যাট ব্রিটিন আসার এক মাস আগেই কর্মী ছাঁটাইয়ের এ ঘোষণা দিলো বিবিসি।
অবশ্য বিবিসিতে যে একটি বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই হতে চলেছে- তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল ফেব্রুয়ারিতেই। ওই মাসে বিবিসি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিল, কোম্পানি তার বাজেট থেকে ৬০ কোটি পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা) সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে।
বিবিসি'র তৎকালীন মহাপরিচালক টিম ডেভি বলেছিলেন, এই অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটায়ের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছে কোম্পানি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা এবং ট্রান্স-জেন্ডার লোকজনের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে ত্রুটিপূর্ণ কাভারেজ দেওয়া সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে গত নভেম্বরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন টিম ডেভি। তারপর গত ০২ এপ্রিল বিবিসি ছেড়ে চলে যান তিনি।
টিম ডেভির বিদায়ের পর বিবিসি'র অন্তবর্তী মহাপরিচালকের পদে আছেন রদ্রি তালফান ডেভিস। বুধবারের অল-স্টাফ বৈঠকের সভাপতি হিসেবে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন তিনিই। ম্যাট ব্রিটিন আসার আগ পর্যন্ত ডেভিস বিবিসি'র মহাপরিচালকের পদে থাকবেন।
ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর মঙ্গলবার বিবিসি'র প্রত্যেক কর্মীকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছেন তালফান ডেভিস। সেখানে তিনি বলেছেন, 'আপনারা ইতোমধ্যে জানেন যে বিবিসি বর্তমানে একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।'
'একদম সহজ ভাবে বলতে গেলে, আমাদের ব্যয় এবং আয়ের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন কারণেই এটা ঘটছে : প্রোডাকশন বাবদ ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে; আমাদের লাইসেন্স ফি এবং বাণিজ্যিক আয় চাপের মধ্যে আছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থাও টালমাটাল।'
'বর্তমানে আমাদের বার্ষিক ব্যয় ৫০০ কোটি পাউন্ড। এই অর্থ থেকে আগামী ২ বছর পর্যন্ত আমাদের কমপক্ষে ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করতে হবে, যার সিংহ ভাগই ব্যয় হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে।'
'ফলে, অবধারিত ভাবেই কর্মীর সংখ্যা হ্রাস করতে হচ্ছে আমাদের। আমি জানি যে এই পদক্ষেপ আমাদের সবার মধ্যে সত্যিকারের অনিশ্চয়তা তৈরি করবে, কিন্তু যে চ্যালেঞ্জের মুখে আমরা আছি- সে সম্পর্কে আমরা কর্মীদের খোলাখুলি ভাবে আমরা জানাতে চেয়েছিলাম।'
যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার সংবাদিক এবং বিনোদন-কমিউনিকেশন-থিয়েটার কর্মীদের ইউনিয়ন বেকটু’র প্রধান নেতা ফিলিপ্পা চাইল্ডস দ্যা গার্ডিয়ানকে বলেন, 'এই মাত্রার কর্মী ছাঁটাই সবার জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে। যেসব কর্মী ছাঁটাই হচ্ছেন- তারা তো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেনই, উপরন্তু বিবিসি'র সার্বিক নিউজ অপারেশনে এই ছাঁটায়ের প্রভাব পড়বে। বিবিসি আমাদের জাতীয় সংবাদ মাধ্যম এবং সরকারের উচিত এই সংবাদ মাধ্যমে বরাদ্দ আরও বাড়ানো।'
আরো পড়ুন: