খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের বন্ধ হলো হরমুজ প্রণালি

খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের বন্ধ হলো হরমুজ প্রণালি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৫৬

আপডেট: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫৯

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় চালু করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা চলমান আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

শনিবার ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় তারা সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় গ্রহণ করেছে। এর আগে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রেক্ষিতে প্রণালিটি উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, তেহরান এখন স্পষ্ট করেছে যে মার্কিন পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবেই তারা এই পুনরায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সমুদ্রপথের ট্র্যাকিং ডেটা বা জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খোলার সংবাদ শুনে অনেক জাহাজ এই সংকীর্ণ পথে প্রবেশের চেষ্টা করলেও, নিরাপত্তা জনিত অনিশ্চয়তার কারণে মাঝপথেই অনেককে গতিপথ পরিবর্তন করতে দেখা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর থেকে জ্বালানি বোঝাই করে পূর্ব দিকে যাত্রা করা অন্তত দুটি বিশাল ট্যাঙ্কারকে মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। অনেক বিদেশি জাহাজ ইরানি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের জলসীমার খুব কাছ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করছে, আবার কেউ কেউ নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য ভারত বা চীনের পতাকাবাহী সিগন্যাল ব্যবহার করছে।

বিশ্বের মোট উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথের সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এক চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন যে, তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা সফল হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তরের দাবি সরাসরি নাকচ করে দেওয়ায় আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই অস্পষ্ট।

বর্তমানে এই সংকটের সমাধানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি ইরান সফর শেষ করেছেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে এ সংক্রান্ত আরও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে।

এদিকে ইরান তাদের আকাশসীমা আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য আংশিক উন্মুক্ত করলেও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ইন্টারনেট বিধিনিষেধ এখনো বহাল রেখেছে। সামগ্রিকভাবে, হরমুজ প্রণালির এই ‘খোলা ও বন্ধ’ হওয়ার নাটকীয়তা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।