পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউস। তবে ওয়াশিংটন পুনরায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (১ মে) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কেলি বলেন, “আমরা ব্যক্তিগত পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার খুঁটিনাটি প্রকাশ করি না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আলোচনা ও সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।”
পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের নতুন এই প্রস্তাব জমা দিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন প্রস্তাবে ইরান কেবল নিজস্ব ভূখণ্ড নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সব কটি ফ্রন্টেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ইরান তাদের মৌলিক অবস্থান থেকে কতটা সরেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যেকোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতার খবর কেবল সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকেই জানানো হবে।
কাতারের হামাদ বিন খালিফা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে স্বীকার করেছেন যে ইরান থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পারমাণবিক হুমকি নেই। এই বক্তব্যটি আলোচনার জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বারাকাতের মতে, ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখেও ইরান যেভাবে ধৈর্য দেখাচ্ছে, তাতে বোঝা যায় তেহরান এমন একটি সমাধান খুঁজছে যা তাদের জন্য সম্মানজনক হয়। সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে বিকল্প রুট (যেমন পাকিস্তান) ব্যবহার করার চেষ্টা সেই কৌশলেরই অংশ।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। শুক্রবার সকালে তিনি তুরস্ক, ইরাক, আজারবাইজান ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তাদের বার্তা পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
আরো পড়ুন: