সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। দেশটির দাবি, এসব হামলার পেছনে ইরান জড়িত। তবে তেহরান এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তারা ইউএই-এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালায়নি। তাদের দাবি, এ ধরনের কোনো অভিযান চালানো হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতো।
অন্যদিকে, ইউএই-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার (৪ মে) চালানো হামলার আগের দিনও হামলায় অন্তত তিনজন আহত হন। এছাড়া ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় আগুন লাগে। সর্বশেষ হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, এই উত্তেজনা এমন এক সময়ে বাড়ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেছে, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং তেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে।
পরিস্থিতির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে, যা তেহরানের তেল রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরান এখনো যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেনি। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপ সাময়িক এবং তারা ইরানের জলসীমা বা আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির আগে পাঁচ সপ্তাহে আমিরাতে প্রায় ২,৮০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা উপসাগরীয় অঞ্চল বা ইসরায়েলের তুলনায় সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: