যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দিতে ইরানের প্রতি চাপ দিয়েছে চীন। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক মিত্র এবং দেশটির জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। গতকাল বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সংঘাতের পর থেকে এই প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর হরমুজে অবরোধ আরোপ করা হয় বলে দাবি করা হয়, ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয় এবং একাধিক দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।
এদিকে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং বিদেশি জাহাজ চলাচলের জন্য অনুমতি ও টোল বাধ্যতামূলক করা হবে। এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং সেখানে টোল আরোপ করা বেআইনি।
চীন-ইরান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে একাধিক ফোনালাপ হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এটি ছিল প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইস্যু বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
আরো পড়ুন: