বিদেশি কোনো হামলায় শীর্ষ নেতা কিম জং উন নিহত হলে বা তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক পাল্টা হামলা চালাবে উত্তর কোরিয়া। এ লক্ষ্যে দেশটির সংবিধানে নতুন বিধান যুক্ত করেছে পিয়ংইয়ং।
সম্প্রতি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিম জং উন।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির প্রথম অধিবেশনে এই সাংবিধানিক সংশোধনী অনুমোদন করা হয়।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কিম জং উন যদি কোনো কারণে সামরিক কমান্ড দেওয়ার অবস্থায় না থাকেন বা নিহত হন, তাহলে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে পাল্টা হামলা চালাবে।
পরমাণু নীতি সংক্রান্ত সংশোধিত আইনের তিন নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের হামলায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক হামলা চালানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা উত্তর কোরিয়াকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে ‘ডিক্যাপিটেশন অ্যাটাক’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূল অভিযানের সক্ষমতা কিম জং উনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সিউলের কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্দ্রেই ল্যাঙ্কভ বলেন, ইরানের ঘটনাটি উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিখুঁত হামলা সক্ষমতা দেখে পিয়ংইয়ং উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তুলনায় উত্তর কোরিয়ায় এ ধরনের অভিযান চালানো অনেক বেশি কঠিন। দেশটির সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা সেখানে প্রায় অসম্ভব।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে নতুন দূরপাল্লার কামান মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছে উত্তর কোরিয়া। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন সম্প্রতি একটি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেছেন, যেখানে ১৫৫ মিলিমিটার সেলফ-প্রোপেলড গান-হাউইটজার তৈরি হচ্ছে। প্রায় ৩৭ মাইল পাল্লার এসব কামান সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে সক্ষম।
আরো পড়ুন: