শান্তি প্রস্তাবে ইরানের জবাবে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

শান্তি প্রস্তাবে ইরানের জবাবে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬ ১০:২২

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে ইরানের পাঠানো জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমার এটা পছন্দ হয়নি— এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

গত সপ্তাহে যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ Pakistan–এর মাধ্যমে Iran–এর কাছে একটি নতুন সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠায় United States। ওই প্রস্তাবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ৩০ দিনের আলোচনা শুরুর বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমেই ওই প্রস্তাবের লিখিত জবাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেয় তেহরান। এরপরই ট্রুথ সোশ্যালে প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরান তাদের জবাবে এ ইস্যু এড়িয়ে যুদ্ধ বন্ধ, বিশেষ করে Lebanon ফ্রন্টে সংঘাত থামানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছে।

এছাড়া হামলার কারণে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় আপত্তি ইউরেনিয়াম ইস্যুতে। বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। এই বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছিল, ইরান যেন তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত হয় ধ্বংস করে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে। তবে জবাবে তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে— মজুতের একটি অংশের বিশুদ্ধতার মাত্রা কমিয়ে দেশে রাখা হবে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করা হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian বলেন, “ইরান কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।”