যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা দ্বন্দ্ব ফের তীব্র হওয়ার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা দ্বন্দ্ব ফের তীব্র হওয়ার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬ ১৩:১১

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ কিউবায় যে কোনো সময় সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—এমন আভাস মিলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে। মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং দ্বীপদেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এক্সিওসের দাবি, কিউবার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রসঙ্গটি ১৯৬২ সালের কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ককে সবচেয়ে বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এর আগে সিএনএন জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার ওপর নজরদারি বিমান অভিযান বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে, যা কিউবা সরকারের মতে সাধারণ মানুষের ওপর “সামগ্রিক শাস্তি”।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা মানবিক সংকট আরও গভীর করছে এবং দেশটিকে জ্বালানি সংকটে ফেলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে নাজুক হয়ে পড়েছে।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী অপহরণের পর কিউবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, কারণ দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি সরবরাহ পেয়ে আসছে।

এক্সিওস জানায়, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই।

তবে একই সময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের বরাতে বলা হয়, কিউবার কাছে রণতরী মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা দেশটির ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যস্ত থাকায় কিউবার বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।