ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন আঁতাত ক্ষমার অযোগ্য: আব্বাস আরাঘচি

ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন আঁতাত ক্ষমার অযোগ্য: আব্বাস আরাঘচি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬ ১০:৪০

কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর শুরু হয় টানা ৪০ দিনের সংঘাত।

এই যুদ্ধ চলাকালেই গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (১৩ মে) নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। তবে আমিরাত এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আবুধাবিতে নেতানিয়াহুর গোপন সফরের বিষয়ে তেহরান আগে থেকেই অবগত ছিল। একই সঙ্গে তিনি আমিরাতকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এ ধরনের গোপন যোগাযোগ অমার্জনীয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি লেখেন, “নেতানিয়াহু নিজেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তিনি আমিরাতে গিয়েছিলেন। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অনেক আগেই এ বিষয়ে দেশের নেতৃত্বকে অবহিত করেছিল।”

তিনি আরও লেখেন, “ইরানের মহান জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নির্বুদ্ধিতা। ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক স্থাপন ক্ষমার অযোগ্য।”

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে এ ধরনের যোগাযোগ অঞ্চলজুড়ে বিভাজন তৈরি করবে। তিনি বলেন, “যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সফরের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমন কোনো সফর ঘটেনি। একই সঙ্গে তারা বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গোপন বা অনানুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল নয়।

যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ইরান। তেহরানের অভিযোগ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহুর কথিত সফর নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং বহুল পরিচিত আব্রাহাম চুক্তির ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে কোনো গোপন বা অস্বচ্ছ যোগাযোগের বিষয় নেই।”

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানও একই উদ্যোগে যুক্ত হয়।