দেশীয় বাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় হঠাৎ করেই চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী দেশের এ সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফটি) বুধবার (১৩ মে) এ নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, কাঁচা, সাদা ও পরিশোধিত—সব ধরনের চিনির রপ্তানি আপাতত বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে অতিরিক্ত উৎপাদনের সম্ভাবনা ধরে সীমিত আকারে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও নতুন সিদ্ধান্তে সেই নীতি পরিবর্তন করা হলো।
তবে ১৩ মে’র আগে যেসব চালান জাহাজে তোলা শুরু হয়েছিল বা কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো রপ্তানি করা যাবে। পাশাপাশি বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনে সরকারি অনুমোদনের ভিত্তিতে রপ্তানির সুযোগ থাকবে।
এর আগে ভারতের সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, চলতি মৌসুমে দেশটিতে চিনি উৎপাদন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কোটার আওতায় থাকা রপ্তানি এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এদিকে ভারতের এ সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। নিউইয়র্কে কাঁচা চিনির ফিউচার প্রায় ২ শতাংশ এবং লন্ডনে সাদা চিনির ফিউচার প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বে ব্রাজিলের পর ভারত দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী দেশ এবং অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক। ফলে ভারতের রপ্তানি সীমিত হলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ কমে যায়, যার প্রভাব বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে বেশি পড়ে।
আরো পড়ুন: