ইরান যুদ্ধ চলাকালে ইরাকে তেহরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান। একই সময়ে কুয়েত থেকেও ইরাকের ভেতরে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলাগুলো সংঘটিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন তৈরির জন্য রয়টার্স তিনজন ইরাকি নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তা, একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, সৌদি যুদ্ধবিমান ইরাকের উত্তর সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসব ঘাঁটি থেকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ইরাকি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কুয়েতের ভূখণ্ড থেকেও অন্তত দুই দফা রকেট হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরাকে চালানো এক হামলায় কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হন এবং কাতাইব হিজবুল্লাহর ড্রোন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি স্থাপনা ধ্বংস হয়।
তবে কুয়েত থেকে ছোড়া রকেট কুয়েতি বাহিনী নাকি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা নিক্ষেপ করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সৌদি আরব সবসময় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা হ্রাসের পক্ষে। তবে ইরাকে হামলার বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডেও হামলা চালায়। একইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে হামলা চালিয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক থেকে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সৌদি আরব ও কুয়েত ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে শুরু করেছে।
আরো পড়ুন: