ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে বিস্তৃত আলোচনায় এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সময়ে ইসরায়েল নতুন হামলা চালিয়েছে এবং দাবি করেছে, এসব অভিযান যুদ্ধবিরতির শর্তের বাইরে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর গোলাবর্ষণের জবাবে লেবাননে তীব্র হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক আগ্রাসনও চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ইসরায়েলের দাবি, এসব অভিযান চলমান যুদ্ধবিরতি কূটনীতির অংশ নয়।
ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, আগামী রোববার শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে। এদিকে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, আরও অগ্রগতির লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। তিনি জানান, আগামী ২ ও ৩ জুন স্থায়ী রাজনৈতিক চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৯ মে উভয় দেশের সামরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করবে পেন্টাগন।
লেবাননের প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সামরিক আলোচনা শুরু হওয়া ‘স্থায়ী স্থিতিশীলতা’ প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে দেশটির জনগণ কিছুটা স্বস্তি পাবে।
হিজবুল্লাহর প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা করে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বৈরুতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে লেবানন দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে।
তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক সংঘাত এমন এক যুদ্ধের জন্ম দিয়েছে, যা আমরা চাইনি; বরং আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তার দাবি, ইসরায়েল ইতোমধ্যে লেবাননের ৬৮টি শহর ও গ্রাম দখল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে আসছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলায়ও দুই দেশ একসঙ্গে অংশ নিয়েছিল। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের অনুপ্রবেশ নিয়ে ওয়াশিংটন সীমিত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার আলোচনায় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, “উত্থান-পতন থাকবেই, তবে সফলতার সম্ভাবনাই বেশি।”
আরো পড়ুন: