গাজার একটি আবাসিক ভবন ও একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এই হামলার পর ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হামাসের সামরিক শাখার গাজা প্রধান ইজ্জ আল-দীন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, ৭ অক্টোবরের হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারীদের একজনকে’ লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
হামাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি এবং স্বাধীনভাবে ইসরায়েলের দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসা সূত্র জানায়, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের রিমাল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় চারজন নিহত হন। অন্যদিকে একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
আনাদোলু সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি ইব্রাহিম আল খলিলি জানান, হামলায় অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার পর ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসেল বলেন, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ভবনটিতে শত শত মানুষ বসবাস করছিল। নিহত ও আহতদের মধ্যে পুরো পরিবার রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ হামলা সংঘটিত হয়েছে নাকবার ৭৮তম বার্ষিকীতে, যা ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার স্মরণে পালন করা হয়।
গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযানের কারণে বহু মানুষ পশ্চিমাঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল। ফলে হামলার শিকার এলাকাটি ছিল অত্যন্ত জনবহুল।
ইসরায়েলি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাদ্দাদ হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজাকে সামরিকমুক্ত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।
যদিও যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছিল, তবুও গাজায় সংঘাত থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আরো পড়ুন: