মস্কোতে ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, নিহত চার

মস্কোতে ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, নিহত চার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬ ১০:৩২

ইউক্রেনের ব্যাপক ও নজিরবিহীন ড্রোন হামলায় রাশিয়ার মস্কো ও বেলগোরোদ অঞ্চলে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মস্কো অঞ্চলে তিনজন এবং বেলগোরোদে একজন রয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

রোববার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন প্রায় ৬০০ ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটিকে রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তারা মোট ৫৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পরে ভোরের দিকে আরও ৩০টি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন থেকে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপসহ ১৪টি রুশ অঞ্চল এবং কৃষ্ণ ও আজভ সাগরের আকাশে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ টেলিগ্রামে জানান, একটি ড্রোন ব্যক্তিগত বাড়িতে আঘাত হানলে এক নারী নিহত হন। এছাড়া আরও দুই পুরুষ নিহত হয়েছেন এবং একজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।

তিনি বলেন, রাত ৩টা থেকে রাজধানী অঞ্চলে বড় ধরনের ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর একদিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy আরও পাল্টা হামলার ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলায় কিয়েভে ২৪ জন নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হওয়ার পর তিনি এ ঘোষণা দেন।

মস্কোর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীতে রাতভর ৮০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

মস্কোর মেয়র Sergey Sobyanin টেলিগ্রামে বলেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু স্থানে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি হামলায় তেল ও গ্যাস শোধনাগারের কাছে কাজ করা শ্রমিকরা আহত হয়েছেন। তবে শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।

তিনি আরও জানান, হামলায় তিনটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়ার ছোড়া ২৮৭টি ড্রোনের মধ্যে ২৭৯টিকে তারা প্রতিহত করেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত তিন দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মস্কো ও কিয়েভ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।