যুদ্ধ সমাধানে দেরি হলে ইরানের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না: ট্রাম্প

যুদ্ধ সমাধানে দেরি হলে ইরানের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬ ১০:৪০

যুদ্ধ সমাপ্তির প্রক্রিয়া থেমে থাকার জন্য ইরানকে দায়ী করে আবারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি বলেছেন, “ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে” এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ইরানের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। একই দিন ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-র সঙ্গে বৈঠকের আগেও তিনি ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

ট্রাম্প পোস্টে বলেন, “তাদের দ্রুত নড়াচড়া করতে হবে, নয়তো তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।”

অন্যদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, সংঘাত নিরসনে তেহরানের পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আপোসহীন অবস্থান’-এর কারণেই আলোচনা অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে।

এর আগে এপ্রিলের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের “গোটা সভ্যতা” ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

সম্প্রতি যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং ইউরেনিয়াম ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দেয় তেহরান। তবে গত সপ্তাহে ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই দাবি করেছেন, তাদের প্রস্তাব ছিল “দায়িত্বশীল” ও “উদার”।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, প্রস্তাবে সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার বিষয়ও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ফার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—ইরানকে শুধু একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে হবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

তবে শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধের পরিবর্তে ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।