যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬ সালে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিতের ঘটনায় কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছে। বুধবার প্রকাশ্যে আসা মামলায় তার বিরুদ্ধে তিন মার্কিন নাগরিকসহ চারজনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় কাস্ত্রো ছাড়াও আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিউবান-আমেরিকান সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর মালিকানাধীন দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল। সে সময় রাউল কাস্ত্রো কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় নিহত চারজন হলেন আরমান্দো আলেহান্দ্রে জুনিয়র, কার্লোস আলবার্তো কস্তা, মারিও ম্যানুয়েল দে লা পেনিয়া এবং পাবলো মোরালেস।
মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের কখনও ভুলে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও ভুলবে না। তিনি জানান, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে পৃথক চারটি হত্যার অভিযোগ আনা হবে।
তবে কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই অভিযোগকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “আইনগত ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
দিয়াজ-কানেল আরও বলেন, বিমান ভূপাতিতের ঘটনায় কিউবা নিজেদের জলসীমায় বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উইলিয়াম লিওগ্রান্ড বলেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হতে পারে কিউবাকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ বাড়ানো।
বর্তমানে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও খাদ্য সংকট চলছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি “নতুন কিউবার” সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথ খুঁজছেন।
আরো পড়ুন: