গাজা উপত্যকার বাসিন্দারা এবারও ঈদুল আজহা কাটাতে যাচ্ছেন কোরবানির পশু ছাড়াই, চলমান যুদ্ধ ও সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে টানা তৃতীয়বারের মতো ধর্মীয় এই উৎসব সীমিতভাবে পালন করতে হচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে হজ পালনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক ফিলিস্তিনি মুসল্লি।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের একটি তাঁবুতে বসবাসরত ৬৪ বছর বয়সী নাজিয়া আবু লেহিয়া জানিয়েছেন, তিনি ও তার স্বামী ২০২৪ সালের হজের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন, তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে স্বামী ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
তিনি বলেন, “হজে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু যুদ্ধ সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। সীমান্ত বন্ধ, জীবন অনিশ্চিত।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজার প্রধান রাফা ক্রসিং বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধবিরতির পর সীমিতভাবে মানবিক কারণে কিছু মানুষকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হলেও হজযাত্রা সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গাজায় দীর্ঘদিন ধরে জীবন্ত পশু আমদানি বন্ধ থাকায় ঈদুল আজহার মূল ধর্মীয় রীতি কোরবানিও ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গরু-ছাগল ও ভেড়া আমদানি হতো, এখন তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
ফলে ২০২৪ সালের পর চলতি বছরও গাজাবাসীরা কোরবানির পশু ছাড়াই ঈদ উদযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, কেবল মানবিক সহায়তা হিসেবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তবে কোরবানির পশু আমদানি অনুমোদন করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান সংঘাত ও অবরোধ গাজার সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে, যা সাধারণ মানুষের ঈদসহ ধর্মীয় উৎসব পালনের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করছে।
আরো পড়ুন: