রাশিয়ার রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কিয়েভ ও দনিপ্রো অঞ্চল।
মঙ্গলবার (২ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দনিপ্রোতে রুশ হামলায় চারজন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন।
হামলার পর শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। বিমান হামলার সতর্কতা জারি হওয়ায় কিয়েভের হাজার হাজার বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চলজুড়েই সতর্ক সংকেত জারি ছিল।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিয়েভ নগর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
মেয়র ক্লিচকোর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় দুটি বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় ভোর থেকে কিয়েভজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সঙ্গে ড্রোনের গুঞ্জন, অগ্নিকাণ্ড এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি শিল্প স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য বৃহৎ রুশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সোমবার দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলা সংক্রান্ত গোয়েন্দা সতর্কতা এখনো কার্যকর রয়েছে এবং একটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রাশিয়া কিয়েভের সামরিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছিল এবং বিদেশি নাগরিকদের রাজধানী ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিল।
আরো পড়ুন: