মিয়ানমারে ৬ মাসে সেনাবাহিনীর হাতে ৭০২ বেসামরিক নিহত

মিয়ানমারে ৬ মাসে সেনাবাহিনীর হাতে ৭০২ বেসামরিক নিহত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬ ১৪:০১

মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে ছয় মাসে সেনাবাহিনীর হাতে কমপক্ষে ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। নিহতদের মধ্যে ১৫৩ জন শিশু এবং ২২৪ জন নারী রয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত দেশটিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলার ঘটনাই অধিকাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং।

এরপর দেশজুড়ে গড়ে ওঠা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। একাধিক অঞ্চল থেকে সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহীরা, এরপর থেকেই চলছে পাল্টা সামরিক অভিযান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের ১৪টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে সাগাইংয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে ১৯১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩০ জন শিশু ও ৬০ জন নারী রয়েছে।

অক্টোবর মাসে সাগাইংয়ের চাউং-ইউ এলাকায় একটি স্কুলের সামনে জড়ো হওয়া বেসামরিকদের ওপর বিমান হামলায় ২৩ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু ছিল। একই এলাকায় ডিসেম্বরে একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে চায়ের দোকানে বিমান হামলায় আরও অন্তত ১৯ জন নিহত হন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগ এখন কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সংঘাতের কারণে স্থানীয় জনগণ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ দিয়ে জীবন রক্ষার চেষ্টা করেছে, যা বর্তমানে আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

বর্তমানে দেশটির অধিকাংশ এলাকায় সামরিক বাহিনী পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।