ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জার্মানি, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসে জুন মাসের তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। তীব্র গরমে স্পেন ও ফ্রান্সে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশে কনসার্টসহ বড় ধরনের জনসমাগম ও অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সারব্রুকেনে সর্বোচ্চ ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ফ্রান্স সীমান্তবর্তী এ শহরে চলতি সপ্তাহে একাধিকবার তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট বলেন, তীব্র গরমে মানুষের মৃত্যু এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রমশক্তি ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের তাপপ্রবাহের সঙ্গে বিশ্বকে এখন মানিয়ে নিতে হবে।
এদিকে ইউরোপের তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে উত্তর ও পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। বেলজিয়ামের ক্লাইন ব্রোগেলে ৪০ ডিগ্রি এবং নেদারল্যান্ডসের লিম্বুর্গ প্রদেশে ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সাফোকেও জুন মাসের সর্বোচ্চ ৩৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইউরোপের অন্তত ১৫ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে। শনিবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে ২০১২ সালের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উচ্চচাপ বলয়ের কারণে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এটিকে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবদাহ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্যারিসের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। এ অবস্থায় বড় কয়েকটি আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘প্যারিস প্রাইড’ মার্চ এবং ‘সলিডেস’ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল।
নেদারল্যান্ডসে ‘ডেফকন.১’ ফেস্টিভ্যাল হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে চললেও রেড অ্যালার্টের কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জার্মানিতেও হামবুর্গ হাফ ম্যারাথনসহ বহু আয়োজন বাতিল করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: