ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ, নিহত বেড়ে ১,৭১৯

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ, নিহত বেড়ে ১,৭১৯
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬ ১১:০৮

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও পর্যাপ্ত উদ্ধার সহায়তা পৌঁছাতে পারেনি। ফলে অনেক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারাই শাবল, কোদাল ও হাতুড়ি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভোরে দেশটিতে আরও একটি পরাঘাত অনুভূত হলেও এতে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জন নিহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের কিছুটা আশাবাদী করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। এরপর সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছে বিবিসি। কারাকাসের পশ্চিমে এল জুনকুইতো এলাকার বাসিন্দারা রয়টার্সকে বলেন, সরকারি সহায়তা সীমিত থাকায় কৃষক ও স্থানীয় মানুষের দেওয়া খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গতদের প্রধান ভরসা।

তবে সরকারের দাবি, ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে রঙভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানান, মূল ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশির ভাগই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য প্রাণহানার সংখ্যা বিবেচনায় জাতিসংঘ ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। তার আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান শেষ হলে নিহতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।