ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, দাফন অনুষ্ঠানে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি মন্তব্য করেন, চাইলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে “এক নিমিষেই নিশ্চিহ্ন” করা সম্ভব, কিন্তু তা করলে আলোচনার আর কেউ থাকবে না। তিনি আরও দাবি করেন, খামেনিকে ঘিরে মানুষের শোক দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন, কারণ তার ধারণা ছিল মানুষ তাকে ঘৃণা করে।
ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাবে ইরানের দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়। পোস্টে বলা হয়, “মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। তোমরা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছ, কিন্তু তার আদর্শকে নয়।”
দূতাবাস আরও দাবি করে, “তোমরা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছ, যার সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। তোমরা এসব বোঝো না, কারণ তোমাদের সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মান নেই।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে বিরোধের জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে তেহরানে খামেনির পরিবারসহ প্রাণহানি ঘটে। এরপর থেকেই দেশটিতে দাফন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।
পরবর্তীতে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও চলমান উত্তেজনার মধ্যে আগামী সপ্তাহে কোম ও মাশহাদে বড় শোভাযাত্রা এবং ইরাকের বিভিন্ন শহরে কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহল এই দাফন প্রক্রিয়াকে জনসমর্থন ও রাষ্ট্রীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ ইস্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আরো পড়ুন: